অনলাইনে টাকা ইনকাম করা কি খুবেই সহজ

যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করে তাদের মধ্যে ৮০% লোক জানে অনলাইন থেকে টাকা ইনকাম করা যায়। কিন্তু সমস্যা হল যারা যানে টাকা ইনকাম করা যায় তাদের মধ্যে ৬০% লোক বা তারও বেশি সংখ্যক মানুস খুব তাড়াতারি অনলাইন থেকে টাকা ইনকাম করতে চায়।

তারা হয়তো বা মনে করে অনলাইন আয় করার একটি খুব সহজ প্লাটফর্ম। এবং যারা অনলাইনে সহজে ইনকাম করার জন্য উপায় খোঁজে তারাই বেশি প্রতারিত হয়।

আবার অনেক মানুষ অনলাইনে ফ্রি টাকা ইনকাম কারা উপায় খোঁজে। এই ধররেন মানুষ গুলোও শর্ট কাটে টাকা আয় করতে চায়।

কিন্তু বাস্তবতা হল সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। একবারে চিরন্তন সত্য কথা হল অনলাইন থেকে শর্ট কাটে টাকা আয় করা যায় না। হ্যাঁ অবৈধ পথে অনলাইন থেকে শর্ট কাটে অর্থ আয় করা যায়। কিন্তু সেই শর্ট কাট রাস্তাটি আপনার জীবন শেষ করে দিবে। কারন শর্ট কাটে অর্থ আয় শর্ট কাটে চলে যায়।

সুতরাং প্রশ্নটির উত্তর হল অনলাইন থেকে আয় করা খুব সহজ বিষয় নয়। অনলাইন থেকে আয় করতে চাইলে দরকার ট্রেনিং এবং অভিজ্ঞতা।

অনলাইন অনেক ভাবে আয় করা যায়। কিন্তু বেশ কয়েটি প্রচালিত নিয়ম হল———–

  • ব্যবসা
  • ফ্রিল্যান্সি
  • ক্রিয়েটর

অনলাইনে ব্যবসা করে ইনকাম

আমরা জানি যে ডিজিটাল যুগে ব্যবসা করার জন্য দোকান না দিলেও চালে। যদিও সমস্ত কিছু এখনো ডিজিটাল হয়নি কিন্তু আস্তে আস্তে হয়ে যাবে।

অনলাইন ব্যবসাকে বলা হয় ই-কমার্স। আপনি অনলাইন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পন্য বিক্রি করে আয় করতে পারবেন। যেমন দারাজ একই অনলাইন প্লাটফর্ম যার কাজ হল ক্রেতা এবং বিক্রেতার মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা। মাঝ খান থেকে বিক্রেতার লাভের একটি অংশ দারাজ পেয়ে থাকে।

আপনি চাইলে অনলাইন পন্য বিক্রি করা ব্যতিত অন্য ধরনের ব্যবসা করে ইনকাম করতে পারেন। আপনাকে শুধু নতুন নতুন ব্যবসার আইডিয়া চিন্তা করে সেটা অনলাইনের মাধ্যমে প্রদান করতে হবে।

বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার অনেক সার্ভিস অনলাইনের মাধ্যমে দিয়ে থাকে। যার কারনে মানুষের ভোগান্তি কম সহ দূরর্নীতির মাত্রা কমে এসেছে।

একই ভাবে আপনিও সার্ভিস রিলেটেড ব্যবসা শুরু করে দিতে পারেন অনলাইনের মাধ্যমে। যেমন অনলাইনের মাধ্যমে চিটিং সার্ভিস, বুকিং সার্ভিস, বিজনেস সহযোগিতা সার্ভিস, কর্মী প্রদান সার্ভিস সহ লক্ষ লক্ষ সার্ভিস আছে যা অনলাইনের মাধ্যমে সার্ভিস প্রদানকারী এবং গ্রহনকারীর মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে আয় করতে পারেন।

এছাড়া আপনি ফেসবুক, ইউটিউব, টুইটার, ইন্সটাগ্রাম, ইত্যাদি সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মের মাধ্যমে আপনি আপনার পন্য বা সার্ভিস দিতে পারবেন।

ফ্রিল্যান্সিং করে অনলাইন থেকে আয়

নিদিষ্ট কোন বিষয়কে নির্বাচন করে তার উপর কোর্স করে প্রাকটিস করে অভিজ্ঞতা অর্জন করার পর। ফ্রিল্যান্সিং মার্কেট প্লেসে যথাযথ ভাবে প্রোফাইল ওপেন করে আপনি আপনার সার্ভিস বিক্রি করতে পারবেন।

ফ্রিল্যান্সিং মার্কেট গুলো ফ্রিল্যান্সার এবং বায়ারের মধ্যে সংযোগ স্থাপন এবং অর্থ লেনদেনের বিষয়টি মেইনটেইন করে থাকে।

ধরুন আপনি একটি গ্রাফিক্স ডিজাইনার। আপনি ফাইবার, আপওয়ার্ক দুইটি মার্কেট প্লেসে আপনার কাজের উপর ভিত্তি করে প্রোফাইল ওপেন করলেন। এবার ফাইবারে আপনি যে সার্ভিস গুলো প্রদান করবেন বায়ারের সেটা পছন্দ হলে উনি আপনাকে নক করবেন সার্ভিস নেওয়ার জন্য। সবকিছু ঠিক থাকলে বায়ার আপনাকে কাজটি দিয়ে দিবে।

অন্যদিকে আপওয়ার্কে কাজ পাওয়ার জন্য বায়ার যে সকল কাজ সাবমিট করবে সেই সকল কাছে আপনার কাজের ধরন অনুযায়ি বিট করতে হবে। আপনার বিট এমাউন্ট এবং প্রোপোজাল লেটার ঠিক থাকলে আপনি কাজ পাবেন। সাধারনত আপওয়ার্কে ঘন্টা ভিত্তিক ফ্রিল্যান্সির হায়ার করা হয়ে থাকে।

ক্রিয়েটর হয়ে অনলাইন থেকে ইনকাম

আপনি ভালো গান, নাচ, অভিনয়, শিক্ষা, খেলাধুলা, প্রতিযোগিতা, গুছিয়ে কথা বলা, রান্না, ইত্যাদি গুন গুলো আপনার মধ্যে আছে। তাহলে আপনি ইউটিউব, ফেসবুকে আপনার ভিডিও আপলোড দিতে থাকেন।

আপনার আপলোড করা ভিডিও মানে ভালো হলে মানুষ দেখবে এবং শুনবে। একটা সময় পর আপনি ফেসুবক মনিটাইজেশনের মাধ্যমে আপনার আপলোড করা ভিডিও থেকে আয় করতে পারবেন।

একই ভাবে ইউটিউব মনিটাইজেশনের মাধ্যমে আপনার আপলোড করা ভিডিও থেকে আয় করতে পারবেন।

তাছাড়া আপনি ব্লগ লিখে গুগল অ্যাডসন্সের মাধ্যমে অনলাইন থেকে আয় করতে পারবেন।

শেষ কথা হল আপনি ক্রিয়েটিভ ওয়েতে আয় করতে চাইলে আপনাকে প্রচুর ধৈর্য্য ধারন করতে হবে। একটা সময় পর আপনি ভালো আয় করতে পারবেন। অন্যদিকে ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করার জন্য আপনি প্রচুর পরিশ্রম কার সহ এক্সপার্ট হতে হবে আপনার জানা বিষয়ের উপর।

This div height required for enabling the sticky sidebar